Thursday, June 25, 2015

ইসলামের বিরুদ্ধে RAND এর ভয়াবহ ও সূক্ষ্ম কৌশলঃ মুনাফিক শাসকঃ দরবারী আলেমঃ মডারেট মুসলিম

The Rand Corporation: The Think Tank That Controls America

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে লিখতে বসলাম।মনোযোগ দিয়ে ধর্যসহ পড়ুন।না জানা অনেক বিষয় জানতে পারবেন যা আপনার জন্য জানা খুবি জরুরি।







RAND পরিচিতিঃ
RAND শব্দটির পরিপূর্ণ রুপ হচ্ছে Research and Development Corporation. RAND কর্পোরেশন হলো আমেরিকার একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান এবং এর কাজ হলো আমেরিকার সমরনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, কৌঁসুলি ও অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণী বা থিঙ্কট্যাঙ্ক হিসেবে গবেষণা করা। এই প্রতিষ্ঠানের গবেষণার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত তর্কবিতর্কের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের মার্কিন নীতি বা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।RAND সৃষ্টি করা হয় দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পরে। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে আমেরিকা প্রথমবারের মত সফলভাবে  পরমাণু বিস্ফোরণের পর আমেরিকা আমেরিকান ফাইভ স্টার এয়ারফোর্সের একজন জেনারেল চিন্তা করেন আমেরিকা কে বিশ্ব দরবারে একক পরাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে এমন একটি গ্রেট টিমের প্রয়োজন যারা টেকনোলজি নিয়ে গবেষণা করবে। ঐ জেনারেলের নাম ছিল হেনরি হাপ আর্নল্ড (Henry "Hap" Arnold)


(Henry "Hap" Arnold)

১৯৪৬ সালে হেনরি কয়েকজন বিজ্ঞানিকে নিয়ে ১০ মিলিয়ন ডলারের একটি ফান্ড তৈরী করেন এবং সেখানে বিভিন্য বিষয়ে গবেষনা শুরু করেন।তিনি তার গবেষনা প্রতিষ্ঠানের নাম দেন RAND. ঐ সময়টাতে রকেট সাইন্স খুব একটা উন্নত ছিল না।RAND রকেট সাইন্স নিয়ে গবেষণা শুরু করে।অপ্ল সময়ের মধ্যে তারা মহাশূন্যে রকেট পাঠাতে সক্ষম হয়।RAND রকেট স্টেসন স্থাপন করতেও সক্ষম হয়।ঐ সময়কার আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ট্রুমান তাদের এই স্টেসন ভিজিট করেন। আমেরিকান মিলিটারি তাদেরেই সাফল্য দেখে অভিভুত হয়ে পড়ে। এভাবেই অল্প সময়ের মধ্যে RAND আমেরিকার বিভিন্য একাডেমি,পলিটিসিয়ান,সিভিল সোসাইটির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়।

WAR GAMES:

সফলভাবে মহাশুন্যে রকেট উৎক্ষেপণের পর RAND মিসাইল ও রকেট লাঞ্চার  হেলিকপ্টার প্রযুক্তি আবিস্কার করে ফেলে।তাদের সাফল্য দেখে আমেরিকান এয়ার ফোর্স RAND এর সাথে কন্ট্রাক্ট করে।১৯৫৭ সালে এয়ার ফোর্স RAND এর প্রযুক্তি হায়ার করে মহাশুনে স্পাই স্যাটেলাইট তৈরী করতে সক্ষম হয়।এর নাম দেয়া হয়েছিল করনা (CORONA).দুই বছরের মধ্যে সোভিয়েত মোকাবেলায় করনা আমেরিকার সবচেয়ে মুক্ষম অস্ত্রে পরিনত হয়।করনা দিয়ে আমেরিকা প্রথম বারের মত রাশিয়া ও চয়না সিমান্তে স্পাই আবিস্কার করতে সক্ষম হয়।এর ফলস্রুতিতে সোভিয়েত পত্রিকা Pravda RAND  এর নাম দেয় the academy of science and death and destruction.১৯৬০ সালের মধ্যে এভাবেই RAND নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সারা আমেরিকা সহ সারা বিশ্বের মধ্যে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।



RAND এর একের পর এক প্রতিভবান আবিষ্কারের ফলে একসময় যুদ্ধ ক্ষেত্রে সোভিয়েত ইউনিয়নের চেয়ে আমেরিকা এগিয়ে যায় এবং দোদন্ড প্রতাপশালি হয়ে হয়ে ওঠে।আমেরিকান এয়ারফোর্স মিলিটারি সামগ্রিকভাবে পেন্টাগনের কাছে RAND এর গুরুত্ব বহু গুণে বেড়ে যায়।গুরুত্ব এতই বেড়ে যায় যে RAND যেভাবে বলত মেরিকার যুদ্ধ নীতি সেভাবেই পরিচালিত হত।মুলত RAND এর সিদ্ধান্ত কোন একক ব্যাক্তির হুকুম ছিল না।RAND শত শত  এর গবেষকরা গবেষনা করে যে ঐক্য মতে পৌছায় ওটাই RAND এর সিদ্ধান্ত।

ধীরে ধীরে RAND এর পরিধি বাড়তে থাকে।RAND শুধু যুদ্ধের জন্য প্রযুক্তিঅনুসন্ধান করেই ক্ষান্ত থাকে নি।কিভাবে শত্রু প্পক্ষকে বিভক্ত করা যায়,জাতিগত  দাঙ্গা হাঙ্গামা লাগিয়ে কিভাবে বিনা যুদ্ধে জয়ী হওয়া যায় সেটাও অনুসন্ধান করতে থাকে।একেক দেশে/জাতির জন্য তারা একেক ধরণের নীতি পঅনুসন্ধান করে বের করে যাতে যুদ্ধ না করে সে দেশ বা জাতিকে আমেরিকার কতৃতাধীন করা যায়।সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে খান খান করা মুলত RAND এর গবেষণার বাস্তবায়ন মাত্র।মুসলিমরাও যাতে কখনো পরাশক্তি না হয়ে উঠতে পারে,বা আমেরিকার অধীনস্ত থাকে সেজন্য RAND বিপুল গবেষনা করে অনুসন্ধানী রিপোর্ট বের করেছে।আমেরিকান গভামেন্টের কাছে সেই অনুসন্ধানী রিপোর্ট জমা দেয়ার পর গভমেন্ট তা বাস্তবায়ন করছে।সেই ৬০ এর দশক থেকেই এই কার্যক্রম চলছে।সারা বিশ্বে আমেরিকান কতৃত্ত প্রতিষ্ঠার লক্ষে সব দেশের উপরেই গবেষনা চালিয়েছে RAND।আমি এখানে একমাত্র মুসলিমদের ছাড়া অন্য কোন দেশ বা জাতির উপরে RAND এর অনুসন্ধান আলোচনা করব না।সেটার দরকারও নেই করতে লেখাটা বড় হয়ে যাবে।

পশ্চিমা সভ্যতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়ানোর প্রেক্ষিতে ইসলামপন্থাকে সর্বোত্তম উপায়ে সামাল দেয়ার জন্য RAND করপোরেশন মুসলিমদের 4 ভাগ ভাগ করেছে।সেগুলি হচ্ছে-


১। ঐতিহ্যবাদী (Traditionalist)
২। চরমপন্থী (Extremist)
৩। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী (Secularist)
৪। আধুনিকতাবাদী (Modernist)



ঐতিহ্যবাদী (Traditionalist) মধ্যে রাখা হয়েছে বিভিন্য পীর বুজুর্গ সুফী ও এদের অনুসারীদের।এছাড়াও আবের রাজতন্ত্র সমর্থকদের রাখা হয়েছে এই ক্যাটাগরিতে।

বিভিন্য দেশে জিহাদরত মুজাহিদদের,ও শরীয়া আইন বাস্তনবায়ন করতে চাই এমন ইসলামি দলকে চরমপন্থী গ্রুপে স্থান দিয়েছে RAND গবেষকরা।

মুসলিম কিন্তু শরীয়া আইন চাইনা বা ঘৃণা করে এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এমন মুসলিম বা সরকার কে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী (Secularist) গ্রুপে স্থান দেয় RAND

যারা পশ্চিমা ধাপের ডিজুইস লাইফ পরিচালনা করে রাজনীতির ধার ধারে না তাদের আধুনিকতাবাদী (Modernist) ক্যাটাগরিতে ফেলে র‍্যান্ড।
RAND একমাত্র চরমপন্থিদেরকেই মুহাম্মাদ (সঃ) এর অরিজিনাল অনুসারী হিসেবে অভিহিত করে এবং এরাই একমাত্র আমেরিকার জন্য জন্য হুমকি বলে প্রকাশ করে।চরমপন্থিদের পতন করতে ও বাকি তিন ক্যাটাগরির মুসলিমদের উথান করতে RAND আমেরিকা গভমেন্টের কাছে কয়েকদফা কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়।নিচে সেগুলি ধারাবাহিক ভাবে উল্লেখ করা হল ও সংক্ষেপে আলোচনা করা হলঃ

1. RAND শাষক তৈরিঃ

একটি দেশের মুলে হচ্ছে সরকার।সরকার কে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সেই দেশের সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।তাই RAND মুসলিমদের অধীনস্ত করতে মুসলিম দেশের সরকার কে সর্ব প্রথম হাত করতে সুপারিশ করে।Traditionalist (ঐতিহ্যবাদী) সরকার কে আমেরিকা যেভাবে নিয়ন্ত্রন করেঃ
Traditionalist দেশের উদাহরণ হচ্ছে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত বিভিন্য আরব দেশগুলি।এই দেশ গুলির সরকারকে আমেরিকা এই ধরনের লোভ দেখায় আমরা তোমাদের ক্ষমতা টিকায়া রাখতে যা করার তাই করব।তোমাদের দেশেড় ভিতরকার বিদ্রোহ বা বহিরাগত কোন আক্রোমণ সব প্রতিহত করব।বিনিময়ে তোমার শরীয়া আইন প্রতিষ্ঠা করতে পারবে ন,করলেও নাম মাত্র।আর তোমরা সবক্ষেত্রে আমাদের স্বার্থ রক্ষা করে চলবে।

আবার এই ধরণের ভয়ও দেখানো হয় যে যদি তোমারা আমাদের কথা না শুনো তবে যেভাবেই হোক অস্ত্রের জোরে কিংবা কুট কৌশলে তোমাদের  রাজতন্ত্র পতন করে দেব।মুনাফিক রাজার তখন ক্ষমতার লোভে কিংবা ক্ষমতা না হারানোর ভয়ে আমেরিকার দাবি মেনে নেয়।আমেরিকা যা বলে তাই শুনে।

উদাহরণঃ সৌদী রাজা এর সবচেয়ে পারফেক্ট  উদাহরণ।খেয়াল করলে দেখবেন সৌদি রাজারা  এত দালালি করত না আমেরিকার RAND প্রতিষ্ঠার আগে।সোউদি রাজা ফয়সাল কে হত্যা করা হয় বিশ খাইয়ে আমেরিকার দালালি করতে অস্বীকার করায়।গআবার ইতিহাসের জঘন্যতম দালালি করার পরও সৌদি রাজা আব্দুল্লাহ টিকে আছে এখনো।এসবই RAND এর প্রকাশিত গবেষনার বাস্তবায়ন মাত্র।

ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী (Secularist) সরকার প্রধানরা সাধারাণত গণতন্ত্র সমর্থিত হয়। এরা নীতিগতভাবেই আমেরিকার মতাদর্শের হয়ে থাকে।এদের হাত করতে আমেরিকার কোন রকম বেগ পেতে হয় না।বরং এরা নিজেরাই আমেরিকার গোলামি করার জন্য রেডী হয়ে বসে থাকে।অনেক সময় দেখা যায় একটি দেশে দুইটি সেকুলার গণতান্ত্রিক দল আছে।সেক্ষেত্রে আমেরিকার গোলামিতে যে দলটি বেশি অগ্রগামী হয় আমেরিকাকে সেই দলটিকেই সমর্থন দিতে সুপারিশ করে RAND. বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশগুলি এর পারফেক্ট উদাহরণ।

গণতান্ত্রিক কিন্তু ইসলামিক  দলের ক্ষেত্রে RAND এর নীতি হচ্ছে A commitment to democracy as understood in the liberal western tradition.-অর্থাৎ গণতন্ত্রমনা বলতে সেই গণতন্ত্রের প্রতি আস্থাশীল হতে হবে, উদারনৈতিক পশ্চিমা ঐতিহ্য বলতে যা বুঝায়।
Support for democracy implies opposition to the concept of the Islamic state’-অর্থাৎ গণতন্ত্রের সমর্থক বলতে বোঝানো হচ্ছে ইসলামিক রাষ্ট্রের ধারণার সম্পূর্ণ বিরোধী হতে হবে।’ তার মানে মডারেট মুসলিম মাত্রই এমন গণতন্ত্রে বিশ্বাসী যা ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার ঘোর বিরোধী হবে।

এরপর তারা বলছে, `It follows from the above that for a group to declare itself democratic, in the sense of favouring elections as the vehicle for establishing government.’-অর্থাৎ কোনো দল নিজেদেরকে গণতান্ত্রিক দল বলে দাবি করার অধিকার রাখবে না- যদি গণতন্ত্রকে তারা নিছক ক্ষমতায় আরোহণ ও সরকার গঠনের মাধ্যম মনে করে।  

The dividing line between moderate Muslims and radical Islamist is whether Sharia should apply’-অর্থাৎ চরমপন্থী তথা সত্যিকার মুসলিম ও মডারেট র‌্যান্ড মুসলিমদের মধ্যে আসল পার্থক্য হলো শরিয়া আইন চাওয়া আর না চাওয়া।কোন দল যদি শরীয়া আইন কায়েম করতে চাই তাহলে কখনই আমেরিকার শত্রু বলে বিবেচিইত হবে,এবং তাদের যে করেই হোক দমন করা হবে।।তবে ক্ষমতায় নাগেলে গণতন্ত্রের শোভনীয়তা রক্ষার্থে মিডিয়ায় বলা যাবে আমরা তোমাদের সাথে আছি।কখনো যদি এমন দল ক্ষমতায় এসে যায় তবে সেনাবাহিনী কিংবা অন্য কোন পরাশক্তির সহায়তায় বিলিয়ন ডলার খরচ করে হলেও দলটিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সুপারিশ করে RAND.

কোন ইসলামি দল যদি শরীয়া কায়েমকরতে না চাই তবে সেক্ষত্রে আমেরিকার নিতি হবে A commitment to democracy as understood in the liberal western tradition.-অর্থাৎ গণতন্ত্রমনা বলতে সেই গণতন্ত্রের প্রতি আস্থাশীল হতে হবে, উদারনৈতিক পশ্চিমা ঐতিহ্য বলতে যা বুঝায়।

উদাহরণঃ মিসরের বর্তমান ইখওয়ানুল মুসলিমীন বা মুসলিম ব্রাদারহুড শরীয়া আইন বাস্তবায়নের কারনে RAND এর সুপারিশে ক্ষমাতচ্যুত করে আমেরিকা।অপরদিকে ইসলামি দল হুয়া সত্তেও শরীয়া বাস্তবাইয়ন না করাই ১২ বছর ধরে তুরস্কের একে পার্টীকে টিকিয়ে রেখেছে আমেরিকা RAND এর সুপারিশে। 

2. RAND মিডিয়া তৈরীঃ

RAND এর সুপারিশে বহু আগেই আমেরিকা গভমেন্ট বিশ্ব ব্যাপী মিডিয়া নেটওয়ার্ক তৈরী করেছে।এই মিডিয়াগুলি  Traditionalist,Secularist,Modernist পূর্বে উল্লেখ করা এই তিন ক্যাটাগরীর মুসলিমদের অরিজিনাল মুসলিম হিসেবে তুলে ধরে। বাকি extremist গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত সকল মুসলিম বা কে সন্ত্রাসী হিসেবে তুলে ধরে।যেহেতু সেন্টারাল মিডিয়া আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে তারা যা নিউজ দেয় লোকাল মিডিয়া গুলি সেটাই প্রচার করে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়।

এছাড়াও সেন্টারাল মিডিয়াগুলি আমেরিকাকে পরাক্রমশালী হিসেবে প্রচার করে।তাদের নিউজে অন্য দেশের খবর থাকুক বা না থাকুক আমেরিকাকে নিয়ে নিউজ থাকেই,যদি এগুলি ইন্টারনেসনাল মিডিয়া।এজন্য আমাদের দেশের লোকাল মিডিয়াগুলিতে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের ডায়রিয়া হলেও হেড লাইন করে।

তাছারা পছচিমা মিডিয়া পশ্চিমের সমকামিতা,অরাল সেক্স,বিবাহ বহির্ভূত সেক্স,পশ্চিমা পোষাক আশাক খাবার কে এমন ভাবে উপস্থাপন করে যেন এগুলিই অনুসরনীয়।এগুলি সবই RAND এর গবেষনার বাস্তবায়ন মাত্র।

উদাহরণঃ বিবিসি,সি,এন,এন,রয়টারস,আল,জাজিরা এই মিডিয়াগুলি তৈরী করা হয়েছে র‍্যান্ডের সুয়ারিশক্রমে।খেয়াল করলে দেখবেন RAND এর
কার্যক্রম শুরুর পর পরই এই মিডিয়া গুলির জন্ম। 

চরমপন্থিদের দমন করাঃ
RAND এর শ্রেণি বিভাগ অনুসারে শরীয়া আইনের বাস্তবায়ন চাই এমন প্রত্যেক গ্রুপ চরমপন্থীদের অন্তর্ভুক্ত হোক সে অস্ত্রধারী কিংবা ডেমক্র্যাটিক।যারা অস্ত্রের জোরে শরীয়া প্রতিষ্ঠিত করতে চাই এমন জিহাদি গ্রুপগুলির প্রতি RAND এর নির্দেশ হচ্ছে এদেরকে অস্ত্রের জোরেই দমন করতে  হবে।এজন্যই পৃথিবীর বিভিন্য দেশে শরীয়া প্রতিষ্ঠিত করতে লরাইরত মুজাহহিদের বিরুধ্যে লড়ে যাচ্ছে আমেরিকা।লক্ষনীয় যে যেখানেই শরীয়া প্রতিষ্ঠার দাবি উঠছে সেখানেই হাজির হচ্ছে আমেরিকা।তালেবান আল কায়দা জবহাত আল নুসরা আই,এস,আই,আই আল আল শাবাব ইত্যাদি ইসলামি দলের সাথে আমেরিকার যুদ্ধ RAND এর গবেষণা বাস্তনায়ন মাত্র।

উদাহরণঃ ২০০১ সালে জনগনের ভোতে নির্বাচিত তালেবান সরকারকে RAND এর সুপারিসক্রমে উৎখাত করে আমেরিকা।

গণতান্ত্রিক কিন্তু শরীয়া আইন প্রতিষ্ঠা করতে চাই এমন চরম্পন্থীদের ব্যাপারে RAND এর নীতি হচ্ছে ক্ষমতায় আসা মাত্র উৎখাত করতে হবে।

উদাহরনঃ জনগনের ভোটে নির্বাচিত মুরসি সরকারকে মিশরে উৎখাত করা হয় শুধুমাত্র শরীয়া আইন বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়ায়

RAND মাজহাব তৈরীঃ


RAND এর গবেষণায় দেখা যায় যেসব মুসলিম পশ্চিমা শাষক নিয়ত্রিত দেশে বাস করেও পশ্চিমা মিডিয়া দ্বারা প্রভাবিত হয় না তাদের মধ্যে চরমপন্থী (যারা শরীয়া আইন চায়) তৈরী হয়।এটা ঠেকানোর লক্ষে RAND এমন একটি মুসলিম প্রজন্ম গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয় যারা জানবেনা ইসলামে শরীয়া আইন ,জিহাদ ও খিলাফা বলে কিছু আছে।ইসলামের সোনালি যুগের চার সৃষ্ট চার মাজহাবে জিহাদ খলিফা ও শরীয়া আইনের গুরুত্ব সোনালি হরফেই লেখা আছে।মুসলিমরা যদি প্রচলিত মাজহাবের অনুসারী হয় খুব সহজেই তার জিহাদ খলিফা ও শরীয়া আইন সম্পর্কে জেনে যাবে।তাই RAND Corporation সে ষাটের দশকেই সৌদি রাজার  কেনা দালালদের দিয়ে নতুন মাজহাব সৃষ্টি করে।এই মাজহাব সৃষ্টির সময় RAND কয়েকটি মুলনীতি তৈরী করে দেয় যে যা অনুসারে নতুন মাজহাব সৃষ্টি হয়।।মুলনীতিগুল হচ্ছে- 

(১) ইসলামে   জিহাদ বলে কিছু নেই।জিহাদের নামে সন্ত্রাস করা হচ্ছে। 

(২) ইসলামে শরীয়া আইন বলে কিছু নেই।শরীয়া আগের জামানর লোকদের জন্য।বর্তমান আধুনিক যুগে শরীয়া অচল(

৩) ইসসালামে খিলাফাত বলে কিছু নেই,খিলাফতের নামে যা হয়েছে তা রাজতন্ত্র 

(৪)ইসলামকে নামাজ রোজা হজ্জ আর বিয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। 

(৫)প্রচার করতে হবে মাজহাব বলে কিছু নেই।মানতে হবে কুরান হাদিস আর আমরাই হলাম একমাত্র সহিহ হাদিস।(এ দ্বারা উদ্দেশ্য হল যাতে লোকে মাজহাবের কাছে গিয়ে জিহাদ,খলিফা,শরীয়ার গুরুত্ব শিখে না ফেলে) 

এই বিষয়গুলির উপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয় নতুন মাজহাব এবং আলবাণি কে করা হয় সেই মাজহাবের অঘোষিত মুজতাহিদ।তখন থেকেই মিডিয়া কভারেজ পাওয়ার শুরু করেন শায়খ আলবানী।একজন ঘড়ির মেকার ষাটের দশকে হঠাত করে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস হিসেবে আবির্ভূত হন।উল্লেখ্য RAND এর কার্যক্রম শুরুর আগে হাতে গোনা কয়েকজন মানুষও চিনতা না আলবাণী কে। RAND Corporation এবং আল সৌদ পরিবারকে হতাশ করেন নি আলবাণী।তিনি আলজেরিয়ায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত RAND কতৃক উৎখাতিত ইসলামিক স্যালভেশন ফ্রন্টকে জঙ্গী ফত্তোয়া দেন।সার দুনিয়ার মুসলিমদের আশা আকাংখ্যার প্রতিক তালেবানকেও সুস্পষ্ট ভাষায় সন্ত্রাসী ফতোয়া দেন আলবাণী।
তার দুটি ফতোয়ায় এখানে পাবেন http://www.alalbany.net/misc024.php 

উদাহরণঃ RAND কতৃক বেধে দেয়া মুল নীতির সাথে আমাদের দেশের কোন গ্রুপটির আপনি মিল খুজে পান?
 কোন দলটি জিহাদীদের আমেরিকার সাথে সুর মিলিয়ে খারেজি বলে?কারা জিহাদের নামটি মুখেও নেয় না? 
কারা শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার  কথা মুখে উচ্চারনও করে না? কারা নিজেদের বাদে সাবাইকে বাতিল বলে? 
এই বৈশিষ্ট্যের RAND মাজহাব উপমহাদেশে আহলে হাদিস নামে পরিচিত এবং আরবে মাদখালি নামে পরিচিত।এরা মানুষকে ধোকা দিতে নিজদের সালাফি দাবি করে।অরজিনাল সালাফিদের সাথে RAND মাজহাবের পার্থক্য পরবর্তী কোন লেখায় পাবেন

5. RAND শায়খ তৈরী:মুলত যে উদ্দেশ্যে নিয়ে RAND মাজহাব প্রতিষ্ঠা করা হল সেই একই উদ্দেশ্যে আরো শক্তভাবে বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে RAND শায়খ তৈরীর পরিকল্পনা প্রকাশ করে RAND Corporation.RAND মাজহাব যাতে মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্যতা পায় সেজন্যই RAND স\শায়খদের ব্যবস্থা করা।RANdD তার ইনফো তে প্রকাশ করে,মানুষের সাভাবিক প্রবৃত্তি হল যাকে খুব ভালবাসে তাকে অন্ধের মত অনুসরণ করে।আমাদের এমন কিছু  ইসলামি স্কলার তৈরী করতে হবে যারা আমাদের ঘোষিত নীতি মেনে চলবে।তারা বিভিন্য সভা সেমিনারে দাওয়া সেন্ট্রারে প্রচার করবে জিহাদের নামে জঙ্খিগীবাদখিলাফত বলে কিছু নেউ,আর শরীয়া আইন সে যুগের জন্য এই আধুনিক যুগের জন্য নয়। অর্থাৎ তারা ইসলামকে শুধু নামাজ রোজা হজ্জ বিয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলবে।শোউদিতে বিভিন্য দাওয়া সেন্টারগুলি মুলত  RAND এর পরিকল্পনার বাস্তবায়ন মাত্র। 

উদাহরণঃ RAND এর ঘোষিত মুল নীতি মেনে চলে এমন কোন কোন শায়খদের বা আলেমের আপনি মিল খুজে পান? ওইগুলিই হচ্ছে পত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে RAND আলেম।আমি নিচে কিছু নামকরা RAND আলেমের নাম উল্লেখ করছি- 

(১) আব্দুল আযিয বিন বাজঃ সৌদী আরবের গ্র্যান্ড মুফতি। রাশিয়া জিহাদের সময় তালেবানের জন্য ফান্ড কালেক্ট করেন।কিন্তু তালেবান যখন আমেরিকার সাথে যুদ্ধ শুরু করে তিনিই ফতোয়া দেন তালেবান খারেজি কাফের,তিনি শায়খ উসামা বিন লাদেনকেও খারেজি ফতোয়া দেন।
  
খারেজি ফতোয়ার ভিডিয়ঃhttp://www.youtube.com/watch?v=RoxsjwP-iLs 
বিন বাজের প্রতি শায়খ উসামা বিন লাদেন রেহমাউল্লাহর খোলা চিঠিঃ http://en.wikisource.org/wiki/Open_Letter_to_Shaykh_Bin_Baz_on_the_Invalidity_of_his_Fatwa_on_Peace_with_the_Jews

(২) মনের জিহাদ বড় জিহাদ-RAND প্রোডাক্ট ইয়াসির কাদিl http://www.youtube.com/watch?v=_8qgMZZHeFE

(৩) নুমান আলি খানঃ একটি RaND প্রোডাক্ট।মাত্র কিছুদিন আগে বলেছে খিলাফত বলে কিছু নেই।লিংকঃ http://www.youtube.com/watch?v=IRedW-4WIBY 

উপমাহদেশ এবং বাংলাদেশে কিছু RAND এর চেলা আছে।এদের অনেকেই চিনেন।তারপরো সবার সদাথে পরিচয় করয়রে দিচ্ছি।

তালেবান আল কায়েদা কাফের খারেজি-মতি মাদানি।লিংকঃ http://goo.gl/t3QRg2

জিহাদ বলে কিছু নেই,জিহাদের নামে যা হচ্ছে সব জঙ্গীবাদ-আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর।লিঙ্কঃ http://www.somewhereinblog.net/blog/abdullahmfa/29496562 

সবচেয়ে বড়\জিহাদ কলমের জিহাদ-আসাদুল্লাহ গালিব।লিংকঃhttp://archive.org/details/JihadOQital2ndEditionByProf.Dr.MuhammadAsadullahAlGhalib

উপরে আমি RAND সম্পর্কে যা বললাম তার প্রমাণ কি?

আপনার ভিতরে এই প্রশ্নটা কাজ করতে পারে।এজন্য RAND সম্পর্কিত তথ্যগুলি আগে থেকে সংগ্রহ করে তারপর লিখতে বসছি।RAND সম্পর্কিত যা লিখলাম সব RAND এর  অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে অনুবাদিত। ডিটেইলস আরো ভাল করে জানতে পারবেন এখানে-

In Their Own Words, Voices of Jihad- http://www.rand.org/pubs/monographs/2008/RAND_MG602.pdf 

Civil Democratic Islam. Partners, Resources, and Strategies-http://www.rand.org/pubs/monograph_reports/MR1716/MR1716.pdf

Maritime Terrorism Risk and Liability- http://www.rand.org/pubs/monographs/2006/RAND_MG520.pdf 

Counterinsurgency in Afghanistan-http://www.rand.org/pubs/monographs/2008/RAND_MG595.pdf 

Radical Islam in East Africa-http://www.rand.org/pubs/monographs/2009/RAND_MG782.pdf 

Beyond al qaeda. Part one. The Global Jihadist Movement-http://www.rand.org/pubs/monographs/2006/RAND_MG429.pdf 

Beyond al qaeda. Part two. the Outer Rings of the Terrorist Universe-http://www.rand.org/pubs/monographs/2006/RAND_MG430.pdf 

The Muslim World After 9/11-http://www.rand.org/pubs/monographs/2004/RAND_MG246.pdf

এই নোট থেকে শিক্ষনীয় বিষয়গুলিঃ 
১.গবেষণা ও রিসার্চ করে RAND পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।আমাদের হারনো রাজ্য ফিরে পেতে চাইলে রিসার্চের বিকল্প নেই। 

২.RAND এর সহায়তায় অস্ত্রের  জোড়ে গোটা পৃথিবীতে প্রভাব বিস্তার করে আমেরিকা ।হারানো সম্রাজ্য ফিরে পেতে অস্ত্রের কোন বিকল্প নেই। 

৩.সকল RAND মুসলিম,RAND ইসলামি দল,RAND মাজহাব,RAND শায়খ পরিত্যাজ্য যদিও কিছু ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে ভাল কিছু পাওয়া যায়।   

৪.যে ব্যাক্তি মুসলিম শরীয়া চাই সে মুসলিম যে শরীয়া চাই না সে মুসলিম না



প্রাসঙ্গিক লেখাঃ শিয়ারা মুসলিম নাকি অমুসলিম?   http://goo.gl/MM0ZzY

খিলাফতের মৃত্যু ও সৌদি রাজতন্ত্রের জন্ম হল যেভাবেঃ http://goo.gl/7dWEXu  


( নোটটি  কপি -পেস্ট করে  সবার সাথে শেয়ার করে সতর্ক করুন  )

                                         ------------------------------- xxx ----------------------------------------

Source Link: https://www.facebook.com/notes/%E0%A6%B8%E0%A7%8B%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%97-%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%A6/rand-corporation/592552560865114?ref=notif&notif_t=comment_mention

খোরাসান থেকে কালো পতাকাঃ ইমাম মাহদির আবির্ভাবঃ বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিঃ ভয়ংকর নিকট ভবিষ্যৎ

খোরাসানঃ ইমাম মাহদির হাতে বাইয়াত ও যুদ্ধে সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে হাদিস ও সেখানে দাজ্জালি এডভান্স ফোর্সের বর্তমান কার্যক্রম...

মূলত রাসুল (সাঃ) এর যুগে বৃহত্তর খোরাসান বলতে এর সীমানা নিম্ন লিখিত ভূখণ্ডের সমষ্টিকে বুঝায়, যার মূল কেন্দ্র হচ্ছে বর্তমান আফগানিস্তান। বিস্তৃতি নিম্নরূপঃ

“উত্তর-পশ্চিম আফগানিস্তান (হেরাত, বালখ, কাবুল, গাজনি, কান্দাহার দিয়ে বিস্তৃত), উত্তর ও দক্ষিন-পূর্ব উজবেকিস্তান (সামারকান্দ, বুখারা, সেহরিসাবজ, আমু নদী ও সীর নদীর মধ্যাঞ্চল দিয়ে বিস্তৃত), উত্তর-পূর্ব ইরান (নিশাপুর, তুশ, মাসহাদ, গুরগান, দামাঘান দিয়ে বিস্তৃত), দক্ষিন তুর্কমেনিস্তান (মেরি প্রদেশ – মার্ভ, সানজান), দক্ষিন কাজিকিস্তান, উত্তর ও পশ্চিম পাকিস্তান (মালাকান্দ, সোয়াত, দীর ও চিত্রাল), উত্তর পশ্চিম তাজিকিস্তান (সুগ্ধ প্রদেশের খোজান্দ, পাঞ্জাকেন্ত দিয়ে বিস্তৃত)”।

আসুন, প্রথমে আমরা খোরাসান ও সেখান থেকে বাহিনী বের হওয়া, ইমাম মাহদির নিকট বাইয়াত গ্রহণের ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতা এবং সেই খোরাসানী বাহিনীর গন্তব্য সম্বলিত হাদিসগুলোর দিকে চোখ বুলিয়ে নেই।

আবদুল্লাহ ইবনে হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

“পূর্বদিক (খোরাসান) থেকে কিছু লোক বের হয়ে আসবে, যারা ইমাম মাহদির খিলাফত প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করবে এবং খিলাফত প্রতিষ্ঠা সহজ করে দিবে”।

(সহিহ মুসলিম, খণ্ড ৩, হাদিস নং ২৮৯৬; সুনানে ইবনে মাজা, খণ্ড ৩, হাদিস নং ৪০৮৮)

অপর বর্ণনায়, হযরত ছওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“যখন তোমরা দেখবে, কালো পতাকাগুলো খোরাসানের দিক থেকে এসেছে, তখন তাদের সাথে যুক্ত হয়ে যেও। কেননা, তাদেরই মাঝে আল্লাহর খলীফা মাহদি থাকবে”।

(মুসনাদে আহমাদ, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৭৭; কানজুল উম্মাল, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ২৪৬; মিশকাত শরীফ, কেয়ামতের আলামত অধ্যায়)

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, একদা আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। উনি বলতে ছিলেন,

“ঐ দিক থেকে একটি দল আসবে (হাত দিয়ে তিনি পূর্ব দিকে ইশারা করলেন)। তারা কালো পতাকাবাহী হবে। তারা সত্যের (পূর্ণ ইসলামী শাসনের) দাবী জানাবে, কিন্তু তাদেরকে দেওয়া হবে না। দুইবার বা তিনবার এভাবে দাবী জানাবে, কিন্তু তখনকার শাসকগণ তা গ্রহণ করবে না। শেষ পর্যন্ত তারা (ইসলামী শাসন ব্যবস্থার দায়িত্ব) আমার পরিবারস্থ একজন লোকের (ইমাম মাহদির) হাতে সোপর্দ করে দিবে। সে জমিনকে ন্যায় এবং নিষ্ঠার মাধ্যমে ভরে দিবে, ঠিক যেমন ইতিপূর্বে অন্যায় অত্যাচারের মাধ্যমে ভরে দেওয়া হয়েছিল। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যদি কেউ ঐ সময় জীবিত থাকো, তবে অবশ্যই তাদের দলে এসে শরীক হয়ে যেও – যদিও বরফের উপর কনুইয়ে ভর দিয়ে আসতে হয়”।

(আবু আ’মর আদ দাইনিঃ ৫৪৭, মুহাক্কিক আবু আবদুল্লাহ সাফেঈ হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন)

হযরত হাসান (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার প্রিবারস্থ (আহলে বাইত) লোকদের উপর আশু বিপদাপদের বর্ণনা দিচ্ছিলেন,

“শেষ পর্যন্ত আল্লাহ পাক পূর্বদিক থেকে কালো পতাকাবাহী লোকদেরকে পাঠাবেন। যারা ঐ কালো পতাকাবাহী লোকদেরকে সাহায্য করল, আল্লাহ তায়ালাও তাকে সাহায্য করবেন। যে তাকে ছেড়ে দিল, আল্লাহ তায়ালাও তাকে ছেড়ে দেবেন। তারপর ঐ কালো পতাকাবাহী দল এমন এক ব্যক্তি (ইমাম মাহদি) এর কাছে আসবে – যার নাম আমার নামের মতো হবে। তারা ঐ ব্যক্তি (ইমাম মাহদি) এর উপর শাসনব্যবস্থার দায়িত্ব সোপর্দ করবে। সুতরাং, আল্লাহ তায়ালাও তাদেরকে সহযোগিতা করবেন”।

(আলফিতান, নুয়া’ইম ইবনে হাম্মাদঃ ৮৬০)

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদিন আমরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উপস্থিত হলাম। এ সময়ে বনু হাশিমের কয়েকজন যুবক এসে হাজির হল। তাদের দেখার পর রাসুল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চোখদুটো লাল হয়ে গেল এবং চেহারার রং বদলে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, এই অবস্থা দেখে আমি বললাম, ‘আমরা আপনার চেহারায় অপ্রীতিকর কিছু দেখতে পাচ্ছি যে!’

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,

“আমরা আহলে বাইতের জন্য আল্লাহ দুনিয়ার পরিবর্তে আখিরাতকে নির্বাচন করেছেন। আমার পরিবারের সদস্যরা আমার অবর্তমানে বিপদ, দেশান্তর ও অসহায়ত্বের শিকার হবে। এমনকি পূর্ব দিক থেকে এমন কিছু লোক আগমন করবে, যাদের পতাকা হবে কালো। তারা কল্যাণ (নেতৃত্ব) প্রার্থনা করবে; কিন্তু এরা (বনু হাশিম) দেবে না। অগত্যা তারা যুদ্ধ করবে ও জয়লাভ করবে। এবার তারা যা (নেতৃত্ব) প্রার্থনা করেছিল, (বনু হাশিম) তা প্রদান করবে। কিন্তু এবার তারা তা (নেতৃত্ব) গ্রহণ না করে আমার বংশের এক ব্যক্তি (ইমাম মাহদি) কে তা (নেতৃত্ব) ফিরিয়ে দিবে। সেই ব্যক্তি (ইমাম মাহদি) পৃথিবীটাকে ন্যায়নীতি দ্বারা এমনভাবে ভরে দিবে, যেমনটি পূর্বে তা অবিচারে পরিপূর্ণ ছিল। তোমাদের যে লোক সেই সময়টি পাবে, সে যেন উক্ত বাহিনীর সাথে যুক্ত হয়ে যায় বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে গিয়ে হলেও”।

(সুনানে ইবনে মাজা, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৩৬৬)

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“যখন কালো পতাকাগুলো পূর্ব দিক (খোরাসান) থেকে বের হবে, তখন কোন বস্তু তাদেরকে প্রতিহত করতে সক্ষম হবে না। এমনকি এই পতাকাকে ইলিয়ায় (বাইতুল মুকাদ্দাসে) উত্তোলন করা হবে (খেলাফত প্রতিষ্ঠা করবে)”।

(সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ২২৬৯;মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ৮৭৬০)

প্রতিহত করতে না পারলেও সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা তৈরির ব্যাপারে বর্ণনা এসেছে। ইমাম জুহরি বলেছেন, আমার কাছে এই বর্ণনা পৌঁছেছে যে,

“খোরাসান থেকে কালো পতাকা বের হবে। সেটি যখন খোরাসানের ঘাঁটি থেকে অবতরণ করবে, তখন ইসলামের খোঁজে অবতরণ করবে। কোন বস্তু তাদের মাঝে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারবে না অনারবদের পতাকাগুলো ব্যতীত, যেগুলো পশ্চিম দিক থেকে আসবে”।

(কানাজুল উম্মাল, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ১৬২)

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“পূর্ব দিক (খোরাসান) থেকে অবশ্যই কালো পতাকাবাহী দল আসবে। ঘোড়ার সিনা পর্যন্ত রক্তে ডুবন্ত থাকবে”।

(মাজমাউজ জাওয়াইদ)

হযরত বুরাইদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমার পরে অনেক বাহিনী আসবে। তোমরা অবশ্যই খোরাসানের বাহিনীতে যোগ দিবে”।

(ইবনে আদি)

ইমাম যুহরি বলেছেন,

“পূর্ব থেকে কালো পতাকা এগিয়ে আসবে, যাদের নেতৃত্ব দেবে এমন এক দল লোক, যারা হবে ঝুলপরিহিত খোরাসানি উস্ট্রীর মতো, লম্বা চুল ও দাঁড়ি বিশিষ্ট। তাদের বংশ হবে গ্রামীণ আর নাম হবে উপনাম। তারা দামেস্ক নগরীকে জয় করবে। তাদের থেকে তিন ঘণ্টার জন্য রহমত প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে”।

(আল ফিতান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৬)

খোরাসান থেকে বের হওয়া এই কালো পতাকাবাহী এই বাহিনী ইমাম মেহেদীর হাতে বাইয়াত গ্রহণের পূর্বে ইরাকের কুফা নগরীতে সিরিয়ার বনু কাল্ব গোত্রীয় কুরায়শি শাসকের (হাদিসের বর্ণনাগুলোতে ‘সুফিয়ানি’ হিসাবে এসেছে) মোকাবিলা করবে।

আরতাত (রাঃ) বলেন,

“সুফিয়ানি কুফায় প্রবেশ করবে। তিনদিন পর্যন্ত সে দুশমনদের বন্দীদেরকে সেখানে আটকে রাখবে এবং সত্তর হাজার কুফাবাসীকে হত্যা করে ফেলবে। তারপর সে আঠার দিন পর্যন্ত আঠার দিন পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে তাদের (কুফাবাসীদের) সম্পদগুলো বণ্টন করবে। তাদের (কুফাবাসীদের) মধ্যে একদল খোরাসানে ফেরত যাবে। সুফিয়ানির সৈন্যবাহিনী আসবে এবং কুফার বিল্ডিংগুলো ধ্বংস করে সে খোরাসানবাসীদেরকে তালাশ করবে। খোরাসানে একটি দলের আবির্ভাব ঘটবে, যারা ইমাম মাহদির দিকে আহ্বান করবে। অতঃপর মাহদি ও মানসুর (একজন সেনাপতি) উভয়ে উভয়ে কুফা থেকে পলায়ন করবে। সুফিয়ানি উভয়ের তালাশে সৈন্য প্রেরণ করবে। অতঃপর যখন মাহদি ও মানসুর মক্কায় পৌঁছে যাবে, তখন সুফিয়ানির বাহিনীকে ‘বায়দা’ নামক স্থানে মাটির নিচে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে। এরপর মাহদি মক্কা থেকে বের হয়ে মদিনায় যাবেন এবং ওখানে বনু হাশেমকে মুক্ত করবেন। এমন সময় কালো পতাকাবাহী লোকেরা এসে পানির উপর অবস্থান করবে। কুফায় অবস্থিত সুফিয়ানির লোকেরা কালো পতাকাবাহী দলের আগমনের কথা শুনে পলায়ন করবে। কুফার সম্মানিত লোকেরা বের হবে যাদেরকে ‘আসহাব’ বলা হয়ে থাকে, তাদের কাছে কিছু অস্ত্র শস্ত্রও থাকবে এবং তাদের মধ্যে বসরা’বাসীদের থেকে একজন লোক থাকবে। অতঃপর কুফাবাসী সুফিয়ানির লোকদেরকে ধরে ফেলবে এবং কুফার যে সব লোক তাদের হাতে থাকবে, তাদেরকে মুক্ত করবে। পরিশেষে কালো পতাকাবাহী দল এসে মাহদির হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবে”।

(আল ফিতানঃ ৮৫০, মুহাক্কিক আহমদ ইবনে সুয়াইব এই হাদিসটির সনদকে ‘লাবাসা বিহা’ বা ‘বর্ণনাটি গ্রহণ করা যেতে পারে’ বলেছেন)

‘মানসুর’ সম্পর্কে হযরত হিলাল ইবনে আমর বর্ণনা করেন, আমি হযরত আলী (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“এক লোক মা-আরউন্নহর (নদীর ওপার) থেকে রওনা হবে, যার নাম হবে হারছ হাররাছ। তার বাহিনীর সম্মুখ অংশের সেনাপতির নাম হবে মানসুর, যে (খেলাফত বিষয়ে) মুহম্মদ বংশের জন্য পথ সুগম করবে বা শক্ত করবে, যেমনটি কুরাইশ আল্লাহর রাসুলকে ঠিকানা দান করেছিল। তার সাহায্য সহযোগিতা করা কিংবা তার ডাকে সাড়া দেওয়া প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য বলে বিবেচিত হবে”।

(সুনানে আবী দাউদ, হাদিস নং ৪২৯০)

আমু নদীর ওপারে অবস্থিত মধ্য এশিয়ার দেশগুলোকে ইসলামের পরিভাষায় ‘মা-আরউন্নহর’ বা ‘নদীর ওপার’ বলা হয়। উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান,কাজিকিস্তান এর অন্তর্ভুক্ত যা কিনা বৃহত্তর খোরাসানের একটি অংশ।

মুহম্মদ বিন হানাফিয়্যা (রহঃ) বলেন,

“বনু আব্বাস থেকে পতাকাবাহী দল বের হবে। অতঃপর খোরাসান থেকে কালো পতাকাবাহী অন্য আরেকটি দল আত্মপ্রকাশ করবে। তাদের পাগড়ীগুলো কালো বর্ণের হবে এবং জামা সাদা বর্ণের হবে। কালো পতাকাবাহী দল সুফিয়ানি (সিরিয়ার বনু কাল্ব গোত্রীয় কুরায়শি শাসক) এর সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে দেবে। শেষ পর্যন্ত তারা বাইতুল মুকাদ্দাসে এসে উপস্থিত হবে এবং তাদের নেতৃত্ব ইমাম মাহদির হাতে সোপর্দ করে দেবে। তাদের কাছে সিরিয়া থেকে তিনশত লোক আসবে। এদের (খোরাসান থেকে কালো পতাকাবাহী) বের হওয়া এবং মাহদির হাতে নেতৃত্ব সোপর্দ করার মাঝে ৭২ মাসের (৬ বছরের) ব্যবধান থাকবে”।

(কিতাব আল ফিতানঃ ৮৫১, দুর্বল হাদিস)

হযরত ছওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“তোমাদের ধনভাণ্ডারের নিকট তিনজন খলীফা সন্তান যুদ্ধ করতে থাকবে। কিন্তু ধনভাণ্ডার তাদের একজনেরও হস্তগত হবে না। তারপর পূর্ব দিক (খোরাসান) থেকে কতগুলো কালো পতাকা আত্মপ্রকাশ করবে। তারা তোমাদের সাথে এমন ঘোরতর লড়াই লড়বে, যেমনটি কোন সম্প্রদায় তাদের সঙ্গে লড়েনি”।

বর্ণনাকারী বলেন, তারপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও একটি বিষয় উল্লেখ করে বললেন,

“তারপর আল্লাহর খলীফা মাহদির আবির্ভাব ঘটবে। তোমরা যখনই তাঁকে দেখবে, তাঁর হাতে বাইয়াত নেবে। যদি এজন্য তোমাদেরকে বরফের উপর দিয়ে হামাগুড়ি খেয়ে যেতে হয়, তবুও যাবে। সে হবে আল্লাহর খলীফা মাহদি”।

(সুনানে ইবনে মাজা; খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৩৬৭; মুসতাদরাকে হাকেম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫১০)

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) বলেন,

“কালো পতাকা পূর্ব দিক থেকে আর হলুদ পতাকা পশ্চিম দিক থেকে আগমন করবে। সিরিয়ার কেন্দ্রভূমি তথা দামেস্কে উভয় পক্ষের মোকাবিলা হবে”।

(আল ফিতান, নুয়া’ইম ইবনে হাম্মাদ)

উমর বিন মুররাহ আল জামালী (রাঃ) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“নিশ্চই খোরাসান থেকে একদল কালো পতাকাবাহী লোকের আবির্ভাব ঘটবে এবং তাঁদের একদল তাঁদের ঘোড়াগুলো দড়ির সাহায্যে বাইতাল লাহ্যিয়া (গাজা, ফিলিস্তিন) এবং হারাস্তার (দামেস্ক, সিরিয়া) মধ্যবর্তী স্থানে জাইতুন গাছের সাথে বাধবে”,  আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, ‘সেখানে কি কোন জাইতুন গাছ আছে’? তিনি বলেন, “যদি সেখানে জাইতুন গাছ নাও থাকে তাহলে শীঘ্রই সেখানে জাইতুন গাছ জন্মাবে এবং খোরাসান থেকে কালো পতাকাবাহী দল বের হয়ে আসবে এবং তারা তাঁদের ঘোড়াগুলো এইসব জাইতুন গাছের সঙ্গে বাঁধবে”।

(কিতাব আল ফিতানঃ ৮৬১, পৃষ্ঠা ২১৫, দুর্বল হাদিস)

উপরের সবগুলো হাদিস সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করলে যেটা প্রতীয়মান হয়, তা হলঃ

>খোরাসানের থেকে যে বাহিনীটি বের হবে তাদের হাতে কালো পতাকা থাকবে।

>তাদের পাগড়ীগুলো কালো বর্ণের হবে এবং জামা সাদা বর্ণের হবে।

>তাদের পোশাক ঢিলে ঢালা হবে, চুল ওয়ালা হবে, তাদের বংশ গ্রামীন হবে।

>আসল নামের পরিবর্তে তারা উপনামে পরিচিত হবে।

>যদিও তাদের কেউ প্রতিহত করতে পারবে না, কিন্তু প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে পশ্চিমা শক্তি।

>তারা এ সকল প্রতিবন্ধকতাকে পেরিয়ে ঠিকই খোরাসান থেকে বের হয়ে ইরাকের দিকে এগুবে।

>এরপর তাদের (কালো পতাকাবাহী খোরাসানিদের দলের) কোন এক নেতা যার নাম হবে ‘মানসুর’, সে ইমাম মাহদিকে সহায়তা করবে। মানুষদেরকে তার দিকে ডাকবে।

>এক পর্যায়ে এই কালো পতাকাবাহী খোরাসানিদের সঙ্গে ইমাম মাহদি (যদিও তখনও তার আত্মপ্রকাশ ঘটেনি, শুধু কালো পতাকাবাহী খোরাসানিদের দলে মিশে আছেন) নিয়েই মক্কাতে পৌছবে।

>সেখানে কোন এক খলীফার তিনপুত্রের দ্বন্দের প্রেক্ষিতে যখন হজ্জ মৌসুমে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটবে, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তার আত্মপ্রকাশ ঘটবে। এবং তার সাথে উপস্থিত থেকে এই খোরাসানের কালো পতাকাবাহীরাই প্রথম বাইয়াতের সৌভাগ্য অর্জন করবে। (পরবর্তীতে ঘটনার পরিক্রমায় সিরিয়ার ‘আবদাল’ বা শ্রেষ্ঠ মুসলমানগণ ও ইরাকের ‘আসাইব’ বা সম্মানিত মুসলিম ব্যক্তিবর্গ মক্কায় এসে ইমাম মাহদির নিকট বাইয়াত হবে)।

>এরপর এই খোরাসানের কালো পতাকাবাহী বাহিনীসহ ইরাকে গমন করে সে অঞ্চলকে মুক্ত করবেন।

>পরে তিনি সিরিয়ার অভিমুখে যাত্রা করে বনু কাল্ব গোত্রীয় কুরায়শি শাসক এর সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে দেবে। (যা হাদিসে ‘কালবের যুদ্ধ’ নামে পরিচিত)।

>যেহেতু এই বাহিনী ইমাম মাহদির নেতৃত্বাধীন থাকবে, হাদিসে বর্ণিত সকল যুদ্ধেই এই কালো পতাকাবাহী খোরাসানি বাহিনীর সকল যোদ্ধা ইরাক, বৃহত্তর সিরিয়া (সিরিয়া, জর্ডান, লেবানন, প্যালেস্টাইন, বাইতুল মাকদিস বা জেরুজালেম) তে কাল্বের যুদ্ধ, পেছন দিককার শত্রুর সাথে যুদ্ধ, রোমানদের (পশ্চিমা খ্রিস্টানদের) সাথে মহাযুদ্ধ থেকে শুরু করে ইস্তাম্বুল বিজয় পর্যন্ত সব যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করবে। কারণ, তারা ইমাম মাহদির খেলাফত প্রতিষ্ঠাকে সহজ করে দিবেন। এবং সর্বশেষে সকল বিজয়ের পর যখন জেরুজালেমে খেলাফত প্রতিষ্ঠা হবে, তখন তারা সেখানে এই কালো পতাকা উড়িয়ে তাদের ঘোড়াগুলোকে জাইতুন গাছের সাথে বেধে তারা ক্ষান্ত হবে।

যেহেতু খোরাসানের এই বাহিনী ইমাম মাহদির সঙ্গী হবে তাতে বুঝা যায় যে, এটি শেষ জামানার অংশ হিসাবে হতে হবে। আসুন, আমরা একটু মিলিয়ে নেই, হাদিসের ধারাবাহিকতায় আমরা কোন জামানায় বসবাস করছি। অন্যথায়, খোরাসান থেকে যে বাহিনীই কালো পতাকা নিয়ে বের হোক না কেন তার গুরুত্ব অনুধাবন করা যাবে না।

হযরত হুজায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

“নবুওয়াত ব্যবস্থা তোমাদের মাঝে ততদিন থাকবে, যতদিন আল্লাহ তাআলা মঞ্জুর করেন। অতঃপর যখন ইচ্ছা, তখন তিনি তা উঠিয়ে নিবেন। তারপর (রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের পর) তোমাদের মাঝে নবুওয়াতের পদ্ধতিতে খেলাফত ব্যবস্থা কায়েম হবে এবং তা আল্লাহ তাআলা যতদিন ইচ্ছা ততদিন থাকবে (খুলাফায়ে রাশিদিন এর যুগ),  অতঃপর তিনি তা উঠিয়ে নিবেন,  তারপর হানাহানির রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তা আল্লাহ তাআলার যতদিন ইচ্ছা ততদিন থাকবে (রাজতন্ত্র),  অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছায় তার বিলুপ্তি ঘটবে। তারপর জবর দখল তথা আধিপত্য বিস্তারের রাজত্ব কায়েম হবে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় দুনিয়াতে কিছুকাল বিরাজমান থাকবে (নানা ভূখণ্ডে বর্তমান একনায়কতন্ত্র ও রকমারি বাদ ও তন্ত্রে প্রতিষ্ঠিত স্বৈর শাসকগণ),   তারপর যখন আল্লাহ ইচ্ছা করবেন, তখন এরও অবসান ঘটবে। অতঃপর নবুওয়াতের পদ্ধতিতে খেলাফত রাষ্ট্র-ব্যবস্থা কায়েম হবে। এ বলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপ রইলেন”।

(মুসনাদে আহমদঃ ৪/২৭৩)

আর তাছাড়া অপর হাদিসে, হযরত আবু উবাইদা (রাঃ) এবং মু’আজ বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“ইসলামের সূচনা হয়েছে নবুওয়াত ও রহমতের শাসনের মাধ্যমে। এরপর হবে খেলাফত ও রহমতের শাসন। এরপর হবে অত্যাচার লুটেরা বাদশাদের শাসন। এরপর হবে অহংকারী প্রভাবশালী বাদশাদের শাসন, তখন জমিনে অন্যায়, অবিচার, ফেতনা ফ্যাসাদ ছড়িয়ে পড়বে। সেকালের লোকেরা রেশম (সিল্ক), ব্যভিচার (পরকীয়ার পাশাপাশি বয়ফ্রেন্ড-গার্ল ফ্রেন্ডের নামে চলমান বহুল প্রচলিত সামাজিকভাবে স্বীকৃত উঠতি বয়সী অবিবাহিতদের জেনা) এবং মদকে হালাল করে ফেলবে। আল্লাহর সাথে সাক্ষাত পর্যন্ত এর মাধ্যমেই তাদেরকে রিজিক দেওয়া হবে এবং সাহায্য করা হবে”।

(শুয়াইবুল ঈমান আল বায়হাকি, ৫/১৬)

উপরের হাদিসদ্বয়ের প্রেক্ষিতে আমরা যে যুগের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছি, তা হচ্ছে অন্যায়, অবিচার ও ফেতনা ফ্যাসাদ ছড়িয়ে পড়ার যুগ। আল্লাহ তা’আলার জমিনে সর্বোচ্চ শাসন ব্যাবস্থা (sovereignty) একমাত্র আল্লাহর হওয়া উচিৎ। যদি আল্লাহর জমিনে আল্লাহর কানুন ব্যতীত মানুষের তৈরি কোন কানুন বাস্তবায়নের অপচেস্টা চালানো হয়, তবে অবশ্যই জমিনে অন্যায় অবিচার ও ফেতনা ফ্যাসাদে ভরে যাবে।

১৯২৪ সালে উসমানি খেলাফতের ভেঙ্গে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে সমগ্র মুসলিম বিশ্ব আজ ৫৭ টি ভূখণ্ডে বিভক্ত হয়ে বর্তমানে একনায়কতন্ত্র ও রকমারি বাদ ও তন্ত্রে প্রতিষ্ঠিত স্বৈর শাসকদের দ্বারা শাসিত। ‘অতঃপর নবুওয়াতের পদ্ধতিতে খেলাফত ব্যবস্থা কায়েম হবে’ - মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ উক্তিই প্রমাণ করে সারা বিশ্বে ইসলামী শাসন পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে। রাজত্বের লাগাম মুসলিমদের হস্তগত হবে। কখনো এর ব্যতিক্রম হবে না। কারণ, বিভিন্ন বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তা যথা সময়ে বাস্তবায়িত হয়েছে। ইতিহাসে তার বহু প্রমাণ রয়েছে। এবং আমরা সেই রকমই একটি ‘ট্রাঞ্জিকশন ফেজ’ এ আছি।

এবার আমরা খোরাসানের দিকে তাকাই। আশির দশকে খোরাসানের কেন্দ্রস্থল আফগানিস্তান সমাজতন্ত্র নামক পাগলা ঘোড়ার সওয়ার তৎকালীন পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নের দ্বারা আক্রান্ত হয়। দীর্ঘ দশ বছরের (১৯৭৯ – ১৯৮৯) যুদ্ধের পর পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন শুধু পরাজিতই হয়নি, কয়েক বছরের মাথায় সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে আমু নদীর ওপারে অবস্থিত মধ্য এশিয়ার দেশগুলো যাকে ইসলামের পরিভাষায় ‘মা-আরউন্নহর’ বা ‘নদীর ওপার’ বলা হয়, সে সব দেশঃ উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান,কাজিকিস্তান এর অন্তর্ভুক্ত যা কিনা বৃহত্তর খোরাসানের একটি অংশ, সমাজন্ত্রমুক্ত হয়ে স্বাধীনভূখণ্ডরূপে আত্মপ্রকাশ করে। যদিও এই যুদ্ধকে মুসলিম জাহান ধর্মযুদ্ধ হিসাবে গ্রহণ করে এবং ‘সে যেন উক্ত বাহিনীর সাথে যুক্ত হয়ে যায় বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে গিয়ে হলেও’ এর উপর আমল করার মতোই সকল মুসলিম ভূখণ্ড হতে মুজাহিদরা আগমন করে। যদিও এদের কারও হাতেই কালো পতাকা ছিল না।

১৯৮৯ সালে রাশিয়ানরা ফিরে গেলে তাদের দালালদেরকে কাবুল থেকে হটিয়ে ১৯৯২ সালে ইসলামিক স্টেট অফ আফগানিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয় এবং জাতীয়তাবাদের উপর ভিত্তি করে একটি রঙ্গিন পতাকা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের অনেকের মধ্যে পশ্চিমারা পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়। আর একে কেন্দ্র করে ক্ষমতার লড়াই শুরু হয় এবং দেশের আইন শৃঙ্খলার ব্যপক বিপর্যয় দেখা যায়। একদিকে যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশের পুনর্গঠনের চ্যলেঞ্জ অন্যদিকে যুদ্ধ ফেরত নেতাদের ‘রকমারি বাদ আর তন্ত্র’ এর উপর ভিত্তি করে ক্ষমতার লড়াই।

অবশেষে গ্রাম্য এক কওমি মদ্রাসার শিক্ষক গুটি কয়েক দরিদ্র ছাত্রদের নিয়ে শুরু হয় শুদ্ধি অভিযান। একের পর এক প্রদেশ তাদের নিয়ন্ত্রণে আসতে থাকে। অবশেষে ১৯৯৬ সালে কাবুলের নিয়ন্ত্রন নেওয়ার পর তারা দেশের আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রনের ঘোষণা দেয়। জাতীয়তাবাদের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত রঙ্গিন পতাকা হটিয়ে উড়িয়ে দেয় ইসলামিক ভূখণ্ডের সত্যিকার পতাকা ‘লিওয়া’ – সাদার ভিতরে কালো রঙ্গের কালিমা খচিত। আর সেনাবাহিনীর পতাকা হল ‘ আর রায়া’ – কালোর ভিতরে সাদা রঙ্গের কালিমা খচিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও যুদ্ধের সময় কালো পতাকা ব্যবহার করতেন, যা ‘উকাবা’ নামে পরিচিত।

শুরু হল খোরাসানের কেন্দ্রস্থলে কালো পতাকাবাহী দলের যাত্রা। পশ্চিমা বিশ্ব হারালো তাদের পরোক্ষ নিয়ন্ত্রন। শুরু হল দাজ্জালি মিডিয়ার প্রচার যুদ্ধ। মিডিয়াতে দেখাতে লাগলো এই দলকে। কিন্তু এ কারা। জামা সাদা বর্ণের আর পাগড়ীগুলো কালো বর্ণের। পোশাক ঢিলে ঢালা , অনেকেই চুল ওয়ালা, পশ্চিমা মিডিয়াই বিশ্বকে জানিয়ে দিল এরা সব পশ্চাৎপদ গ্রামীন। মাদ্রাসার ছাত্র। আরবীতে বলে ‘তালিব এ ইলম’। আর বহু বচন ‘তালিবান’,  আর পশ্চিমা মিডিয়া বিশ্বের সামনে এদেরকে এই ‘তালিবান’ উপনামে পরিচয় করিয়ে দিল (আসল নামের পরিবর্তে তারা উপনামে পরিচিত হবে)।

পশ্চিমা মিডিয়ার বদৌলতে জানা গেল তাদের শাসন ব্যবস্থায় তাদের কঠোর অবস্থান। কিন্তু বিচার হয় কাফের, মুনাফিক আর ফাসেকদের হৃদয় কাঁপানো আইন – শরিয়াহ আইনে। শুরু হল চতুর্মূখী অপপ্রচার। এবং প্রথমেই বেঁছে নেওয়া হল সেই পুরনো অস্ত্র নারী শিক্ষা। পশ্চিমা মিডিয়ার বদৌলতে সারা বিশ্বে জানানো হল এরা ‘নারী শিক্ষা’ ও ‘কর্মক্ষেত্রে নারী’ এর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আমি নিজেও জানতাম তাই। অথচ সত্য কখনও চাপা থাকে না।

২০০১ সালে তালেবানদের পররাষ্ট্র মন্ত্রালয়ের মুখপাত্র সাইয়েদ রহমতুল্লাহ হাশেমী যখন যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনার জন্য যান, তখন তিনি ১০ ই মার্চ ২০০১ এ ক্যালিফোর্নিয়া উনিভার্সিটিতে একটি পাবলিক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। যার ভিডিও ইউটিউবে আসে কেবল ২০১১ এর ১ লা এপ্রিলে (১০ বছর পর!!!!)।

৪১ মিনিট ১০ সেকেন্ডের এই ভিডিওর ১৪ মিনিট থেকে সে তুলে ধরেন কোন কোন মন্ত্রালয়ে নারীরা কাজ করছে। মেডিকেলসহ কোন কোন ক্ষেত্রে ছাত্রর চেয়ে ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। Taliban Spokesman in University of Southern California লিখে ইউটিউবে সার্চ দিলে ইনশাল্লাহ পাওয়া যাবে।

শুধু তাই নয়, তখন তিনি নিউ ইয়র্কের এক টিভি চ্যানেলে চার্লি রোজ এর সাথে একটি সাক্ষাতকার দেন। সেখানেও কিছু অপ্রিয় সত্য সামনে এসেছে। সেই ভিডিও ইউটিউবে এসেছে ১০ বছর পর ৩১ শে জুলাই ২০১১ সালে। Taliban representative in an interview with Charlie Rose লিখে ইউটিউবে সার্চ দিলে ৩ টি পার্টে ইনশাল্লাহ পাওয়া যাবে।

এমন কি একজন ব্রিটিশ মহিলা সাংবাদিক ইভোনি রিডলি, গোয়েন্দা সন্দেহে তাদের হাতে বন্দি হন এবং তালেবান নেতা মোল্লা উমর এর সাক্ষাত লাভে সক্ষম হন। বন্দি হতে মুক্তির বেশ পরে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনিও নিজে মুখে বর্ণনা করেছেন তিনি আফগানিস্তানে কি দেখেছেন। Yvonne Ridley - From Captive to Convert লিখে ইউটিউবে সার্চ দিলে উনার অভিজ্ঞতা বর্ণনার ভিডিও ইনশাল্লাহ পাওয়া যাবে।

যাই হোক, সময় গড়িয়ে এল ২০০১,  এবার সরাসরি প্রতিবন্ধকতার পালা। (যদিও তাদের কেউ প্রতিহত করতে পারবে না, কিন্তু যদি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে পশ্চিমা শক্তি)।

২০০১ এ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সমগ্র পশ্চিমা জোটের স্থল ও আকাশ যোগে আক্রমণ। জোট ও তাদের মিত্রদের (জাতীয়তাবাদী) পতাকার সংখ্যা ২০১১ সালে এক পর্যায়ে ৪৯ এ এসে ঠেকলঃ আলবেনিয়া, আরমেনিয়া, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, আজারবাইজান, বাহরাইন, বেলজিয়াম, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, কানাডা, ক্রোয়েশিয়া, চেক রিপাবলিক, ডেনমার্ক, এল সালভাদর, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জর্জিয়া, জার্মানি, গ্রীস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জর্ডান, রিপাবলিক অব কোরিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবারগ, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া, মন্তেনিগ্রো, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন, প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়া রিপাবলিক অফ মেসিডোনিয়া, টোঙ্গা, তুর্কি, ইউক্রেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। নাম দেওয়া হল ISAF (International Security Assistance Force).

এর মাঝে বৃহত্তর খোরাসানের সিমারেখার মধ্যে কালো পতাকাবাহীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। বর্তমানে আফগানিস্তানে দাজ্জালি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধরতদের মধ্যে একটি বড় অংশ উজবেকিস্থান, কাজাকিস্থান, তুর্কমেনিস্থান, তাজিকিস্থান থেকে আগত। আর সর্বশেষ সংযোজন পাকিস্তানের সোয়াত এলাকার তালিবানরা।

১৫ ই জুন ২০০৯ থেকে ২৩ শে জুলাই ২০১০ পর্যন্ত সর্বশেষ ISAF প্রধান জেনারেল স্ট্যানলি ম্যাক ক্রিস্টাল (Stanley A. McChrystal) অবসরের পর The Real News Network (www.therealnews.com) সাক্ষাতকারে বলেনঃ

“He (Obama) now believes very strongly that united states has to get out, there is no way that US is going to win in Afganistan, no way they can win in Pakistan either, that the US has no understanding of the forces that unleashed in Afganistan, does not understand the Poshtun population”.

সাক্ষাতকারটি দেখতে হলে The Light Reloaded Pt. 7 (The Battle For Khorasan) লিখে ইউটিউবে সার্চ দিলে ৯ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপের ২ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডে এটি দেখা যাবে ইনশাল্লাহ।

এখন পর্যন্ত ৪৯ টি দেশের অনেকেই চলে গেছে আফগানিস্তান ছেড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৪ সালের শেষ পর্যন্ত সকল সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করেছে।

২০১৪ সালে সকল বিদেশি সৈন্য প্রত্যাহারের পর যদি আফগানিস্তান এই কালো পাগড়ী সাদা জামা ওয়ালা কালো পতাকামুক্ত হয়, তাহলে এরা হাদিস মোতাবেক সেই বাহিনী নয়। কিন্তু যদি এর পরে তারা আবার ক্ষমতা নিয়ে নেয়, তাহলে তারা ৪৯ টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত সেই পশ্চিমা জোট বাহিনীর পরাজয় আর মাইক দিয়ে বাড়ি বাড়ি বলতে হবে না, এরা হাদিসের শর্ত ‘যদিও তাদের কেউ প্রতিহত করতে পারবে না, কিন্তু যদি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে পশ্চিমা শক্তি’ পূরণ করে ফেলবে।

খেয়াল করার বিষয় হল, বর্তমানে ঠিক সিরিয়াতে যখন বনু কাল্ব গোত্রের শাসক বাশার আল আসাদ আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা’আর সাথে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত (পূর্বের লিখাতে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে), খোরাসানের এই যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে জুন ২০১৩ তে ১২০জন যোদ্ধা সিরিয়াতে যোগ দেয়। (সূত্রঃ ডন, জুলাই ১৪, ২০১৩)।

আর এই বাহিনী যদি ইমাম মাহদি আগমনের পূর্বে আত্মপ্রকাশকৃত সেই বাহিনী হয়, তবে তাদেরকে আর একটি শর্ত পূরণ করতে হবে। হযরত ইয়াজিদ ইবনে সানাদি বর্ণনা করেন, হযরত কাব (রাঃ) বলেছেন,

“মাহদির আত্মপ্রকাশের একটি লক্ষণ হল, পশ্চিম দিক থেকে পতাকা আসবে। বনু কানদা’র এক খোঁড়া ব্যক্তি সেই বাহিনীর নেতৃত্ব দেবে”।

(আস সুনানুল ওয়ারিদাতুল ফিল ফিতান)

অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হল, ২০০১ সালে যখন পশ্চিমারা খোরাসানের এই কালো পতাকাবাহী বাহিনীটিকে আক্রমণ করে তখন তাদের জয়েন্ট চীফ কমান্ডার ছিল এয়ার ফোর্স জেনারেল রিচার্ড মাইয়ের (Richard Myers)। সে এক পা খোঁড়া।

সে জন্ম গ্রহণ করে কানসাস শহরে যার কিনা কানাডার সাথে সীমানা এবং এই শহরের বেশির ভাগ অধিবাসী কানাডা থেকে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে সেই শুরু থেকে। আর কানাডাকে আরবীতে ‘কানদা’ (كندا) বলে। বাকিটা আল্লাহই ভালো জানেন।

তাই, কোন উপসংহারে না পৌঁছালেও বিশ্বাসী বান্দা হিসাবে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি থাকবে হাদিসে বর্ণিত বৃহত্তর খোরাসানের অন্তর্ভুক্ত ভূখণ্ডগুলোর প্রতিটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক সর্বোপরি সামরিক পরিস্থিতির উপর এবং অপেক্ষায় থাকবো আমরা ২০১৪ সালের পরবর্তী সময়ে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক সর্বোপরি সামরিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।


বিস্তারিত জানতে অবশ্যই এই বইটি ডাউনলোড করে পড়ুন >>>  তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও দাজ্জাল >>> https://gurabamedia.wordpress.com/2012/03/21/%E0%A6%A4%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A6%AF%E0%A6%BC-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%93-%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%8D/
==============================================  X X X ============================================

ইসলাম বিষয়ক এই ভয়ংকর গুরুত্বপূর্ণ পোস্টটা একটু কষ্ট পড়ুন, লুকানো, গোপন করা সত্য জানুন, বিপদ ও বিভ্রান্তি থেকে সাবধান থাকুন !!!

এই লিঙ্কে গিয়ে বিস্তারিত পড়ুন >>> https://www.facebook.com/photo.php?fbid=618638084865596&set=a.306766766052731.74157.100001582313212&type=1&ref=nf

===============================================================================================
পশ্চিমাদের সাজানো নাটক, অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র সম্পর্কে গোপন সত্য জানতে অবশ্যই বইটি পড়বেন, প্রখ্যাত আলেমে দীন "আব্দুল্লাহ আজ্জামের" বই....

বই : পাশ্চাত্য ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্র

লেখক : ডঃ আব্দুল্লাহ আযযাম (রহঃ)

ডাউনলোড লিঙ্কঃ http://www.pdf-archive.com/2014/03/07/pashchatto-islam-birodhi-shorojontro/

===============================================================================================
আল্লাহু আকবর!! ( ইমাম মাহদীর সাহায্যকারী বাহিনী সম্পরকে) রাসুল (সাঃ) এর ভবিষ্যৎ বানী। অবশ্যই দেখবেন >> http://www.youtube.com/watch?v=zs-dDYGXjg0

================================================================================================
ইনশাআল্লাহ্‌ ! ইসলামের বিজয় খুবই সন্নিকটে !!! অবশ্যই দেখবেন >> http://www.youtube.com/watch?v=f5bPsTB9AgI

************************************************************************************************************

অজানা গুরুত্বপূর্ণ ভয়ংকর তথ্য জানতে
১) "খোরাসানের কালো পতাকা" (BLACK FLAG OF KHORASAN) বইটি অনলাইনে পড়ুন/ ডাউনলোড করুন >>> http://goo.gl/TphZvI
২) " দাজ্জালঃ কালো পতাকার চূড়ান্ত শত্রু" বইটি অনলাইনে পড়ুন/ ডাউনলোড করুন >>> https://blackflagseriesinbangla.wordpress.com/category/বই-প্রবন্ধ-দাজ্জালঃ-কালো/
**********************************************************************************************************

( পোস্টটি কপি-পেস্ট করে নিজেদের ওয়ালে শেয়ার করুন যেন আপনার সকল বন্ধুরা দেখতে পায় ও সত্যের দাওয়াত পায় এবং সঠিক খবর জানতে পারে )
================================================================================================


এই লিংকগুলো দেখুন  >>>

***  https://www.facebook.com/photo.php?fbid=752330954829641&set=pb.100001582313212.-2207520000.1427831244.&type=3&src=https%3A%2F%2Fscontent-lhr.xx.fbcdn.net%2Fhphotos-xfa1%2Fv%2Ft1.0-9%2F10559799_752330954829641_7957187011710550966_n.jpg%3Foh%3De33b5e535d8abae6119e6fd25ab01e95%26oe%3D55B8DD14&size=617%2C464

*** https://www.facebook.com/photo.php?fbid=849048908491178&set=pb.100001582313212.-2207520000.1427831244.&type=3&src=https%3A%2F%2Ffbcdn-sphotos-d-a.akamaihd.net%2Fhphotos-ak-xpa1%2Fv%2Ft1.0-9%2F10950715_849048908491178_8880444382158502481_n.jpg%3Foh%3Db4f93721c3f3866d4bb2998b7da55a52%26oe%3D556FBFAF%26__gda__%3D1437847831_bbebfa25098ca58ad83e3fe7c1ed3290&size=468%2C472

*** https://www.facebook.com/photo.php?fbid=763135897082480&set=pb.100001582313212.-2207520000.1427831244.&type=3&src=https%3A%2F%2Ffbcdn-sphotos-e-a.akamaihd.net%2Fhphotos-ak-xpa1%2Fv%2Ft1.0-9%2F10685538_763135897082480_4200831678876874732_n.jpg%3Foh%3D3c147e7467c6a9b72963f42343d5665d%26oe%3D55B68B3E%26__gda__%3D1437315718_3bc7d522a6b50f355a3e304782fbf2c9&size=720%2C408

*** https://www.facebook.com/photo.php?fbid=708665252529545&set=pb.100001582313212.-2207520000.1427831270.&type=3&src=https%3A%2F%2Fscontent-lhr.xx.fbcdn.net%2Fhphotos-xpf1%2Fv%2Ft1.0-9%2F10415610_708665252529545_7405643889125151289_n.jpg%3Foh%3Daa564c439509d78d5cf28c1f0985b44c%26oe%3D55A061C5&size=524%2C350

Monday, June 23, 2014

দাজ্জালের ফিতনা ও ঈমানের হেফাজত

অন্ধকার ফিতনার ভয়ানক প্রতিচ্ছবি দিন দিন মানবতাকে গ্রাস করে চলেছে। ঈমানওয়ালাদের জন্য এটি কঠিন পরীক্ষার মুহূর্ত। কুফরের পক্ষ থেকে এদিক বা ওদিকের ঘোষণা প্রচার করে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক মুসলমানকে একটি বিষয় বুঝে নেওয়া আবশ্যক যে, পরীক্ষার এই হলটি অতিক্রম করা ব্যতীত জান্নাত ও জাহান্নামের ফয়সালা হতে পারে না।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক বলেনঃ
“তোমরা কি মনে করছ যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ এখনও আল্লাহ জেনে নেননি যে, তোমাদের কে আল্লাহর রাহে যুদ্ধ করেছে আর কারা দৃঢ়পদ।” (সূরা আল ইমরান : ১৪২)

এটি আল্লাহ পাকের বিধান। আল্লাহর বিধান কখনও পরিবর্তন হয় না। আপনি হযরত মাহদী ও দাজ্জাল বিষয়ক হাদিসগুলো পড়েছেন। সবগুলো হাদিসে স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করা হয়েছে, হযরত মাহদী ও ঈসা (আঃ) এর আগমনের উদ্দেশ্য যুদ্ধ। আবির্ভূত হয়েই তারা কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে মুজাহিদদের নেতৃত্ব দিবেন। এ কারণে প্রত্যেক মুসলমানকে আপন আপন ঈমানের ভাবনা ভাবা দরকার। নিজের ঈমানকে রক্ষা করার জন্য অন্তরে যুদ্ধের চেতনা ও শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করা দরকার। মুনাফিকদের জন্য একাজটি অত্যন্ত কঠিন।

আল্লাহ পাক বলেনঃ
“তারা (মুনাফিকরা) যদি বের হওয়ার ইচ্ছা করত, তাহলে অবশ্যই তারা এ কাজের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করত।” (সূরা তাওবা : ৪৬)

যেমনটি আগে বলা হয়েছে, মুসলমানদের ধোঁকা দিতে ইবলিসি শক্তিগুলো মিথ্যা মাহাদিকে জনসম্মুখে উপস্থাপন করতে পারে আর সত্যিকার মাহদীকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসাবে আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। কাজেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত মাহদীর যেসব আলামত বর্ণনা করেছেন, সেগুলোকে সামনে রেখে ঘটনার বাস্তবতা বুঝবার চেষ্টা করতে হবে। এছাড়া আরও কিছু বিষয় আছে, যেগুলো অনুসরণ করে চললে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ।

 দাজ্জালের যুগে বাস্তবতা ততটা হবে না, যতটা চলবে গুজব ও অপপ্রচার। এই প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম হবে আধুনিক প্রচার মাধ্যম। যেমন – পত্রিকা, রেডিও, টিভি, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ইত্যাদি। কাজেই এই আধুনিক কমিউনিকেশন ও অন্যান্য সুবিধা থেকে নিজেকে যতসম্ভব মুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে বরং এখন থেকেই এমন অভ্যাস গড়ে তুলুন যে, কাল যদি আপনি এসব প্রযুক্তি পরিত্যাগ করতে বাধ্য হন, তা হলে এসব পরিত্যাগ করতে যেন আপনাকে কোন সমস্যায় নিপাতিত হতে না হয়। কাজেই এসব আধুনিক প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীলতা যত কমানো যায়, আপনার দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য ততই কল্যাণকর প্রমাণিত হবে।

 দাজ্জালি মিডিয়া যারা পড়ে ও শোনে, তারা সাধারণত নিজের মাথায় চিন্তা করে না। বরং ওসব মিডিয়ার সংবাদ, ছবি ও পর্যালোচনাই তাদের মন-মস্তিস্কের উপর পুরোপুরি ক্রিয়াশীল হয়ে থাকে। তাই ওসব প্রচার মাধ্যম থেকে যথাসম্ভব নিরাপদ থাকার চেষ্টা করতে হবে।

  এ যুগে দাজ্জালি শক্তিগুলো ইসলাম ও ইসলামের অনুসারীদের বিরুদ্ধে এত বেশি প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে এই অপপ্রচারের জোরে সত্য চাপা পড়ে থাকে। এজন্য পশ্চিমা মিডিয়ার সূত্রে যদি আপনার কানে যদি কোন সংবাদ আসে, তা হলে পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংবাদটি অন্য কানে দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এই পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে আপনি দাজ্জালি শক্তিগুলোর অপপ্রচারের ক্রিয়া থেকে পুরোপুরি মুক্ত নাও যদি হতে পারেন, অন্তত তার শক্তি তো অবশ্যই দুর্বল করে দিতে সক্ষম হবেন। পবিত্র কুরআন কাফেরদের এই প্রচেষ্টার কথা এভাবে বর্ণনা করেছেঃ
“তোমরা যখন সংবাদটি শুনেছ, তখন মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা নিজেদের ব্যাপারে সু ধারনা করল না কেন? আর কেন এ কথা বলল না যে, এটি তো সুস্পষ্ট এক অপবাদ?” (আন নূরঃ ১২)
অপর এক আয়াতে শোনা সংবাদ পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে মুখ থেকে বের করারও নিন্দা করা হয়েছে।

যখন কোন বিষয়কে দাজ্জালি শক্তিগুলোর পক্ষ থেকে সন্দিগ্ধ বানিয়ে দেওয়া হবে এবং বিষয়টি ঠিক, না ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া দুষ্কর হয়ে পড়বে, তখন আধুনিক বস্তুগত উপকরণের মাধ্যমে তথ্য জানার পরিবর্তে আল্লাহর প্রতি মনোনিবেশ করবেন। কেননা, পরিস্থিতিকে যারা দাজ্জালের চোখে দেখে আর যারা আল্লাহর নূরের সাহায্যে দেখে, উভয়ে সমান হতে পারে না। যেমন – পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক বলেনঃ
“আল্লাহ যার বক্ষকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, সে তার রবের আলোর উপরই প্রতিষ্ঠিত। এই ব্যক্তি অন্যদের মতো হতে পারে না।” (সূরা জুমারঃ ২২)
বর্তমান যুগের একাধিক ঘটনা প্রমাণিত করে দিয়েছে, যাদের তথ্য জানার একমাত্র উপায় প্রচারমাধ্যম, তারা সত্যের সন্ধান পায় না। বরং তারা যে সব সংবাদ বিশ্লেষণ পড়ে ও শোনে, তাই তাদের দৃষ্টিতে সত্যে পরিণত হয়ে যায়। এভাবে তারা আল্লাহর বাহিনীর পরিবর্তে ইবলিসের বাহিনীকে শক্তি যোগাচ্ছে। অনেক সময় শিক্ষিতজনদের বিশ্লেষণ এমন হয়ে থাকে যে, তাদের বিবেকের জন্য আক্ষেপ করা ব্যতীত কোন উপায় থাকে না।

হৃদয়ের স্ক্রিনটিকে ওয়াশ করে নিন বিবেকবান মুসলমান ভাই ও বোনেরা যখন পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ বুঝে ফেলবে এবং তাদের টিভি ও কম্পিউটারের স্ক্রিনের ঘটনাচিত্র মনে সংশয় তৈরি করতে শুরু করবে, তখন ডানে বাঁয়ে না দেখে নিজের বক্ষে স্থাপিত ক্ষুদ্র স্ক্রিনটিকে ওয়াশ করে নেওয়াটাই অধিকতর উত্তম হবে। তারপর দেখবেন, পরিষ্কার হওয়ার পর এই ক্ষুদ্র স্ক্রিনটি আপনাকে এমন দৃশ্যাবলী দেখাতে শুরু করবে, যা আপনি গোটা জীবন আধুনিক-থেকে-আধুনিকতর প্রযুক্তি ব্যবহার করেও দেখতে পারতেন না।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক বলেনঃ
“ওহে যারা ঈমান এনেছ, তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় করে চল, তাহলে তিনি তোমাদেরকে ‘ফুরকান’ দান করবেন।” (সূরা আনফালঃ ২৯)

এই ‘ফুরকান’ ই সেই স্ক্রিন, যার পর্দায় সাধারণ চোখে দেখা যায় না এমন সব বিষয়ও পরিদৃশ্য হতে শুরু করে। মালায়ে আ’লা তথা খোদায়ী শক্তির সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক জুড়ে যায়, যেখানে জগতের ব্যবস্থাপনামূলক বিষয়াদি চূড়ান্ত হয় এবং আল্লাহর তাজাল্লি নিপাতিত হয়। মহান আল্লাহ তার বান্দাদেরকে দূর দৃষ্টি দান করেন। অবশেষে বান্দা আল্লাহর নূর দ্বারা দেখতে শুরু করে।

দাজ্জালের ফেতনা থেকে রক্ষা পেতে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূরা কাহাফের প্রথম দিককার আয়াতগুলো পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আপনি এই আয়াতগুলো মর্ম বুঝে পাঠ করুন। দেখতে পাবেন, এই আয়াতগুলোতে নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে।

(ক) আল্লাহর হামদ ও ছানার পর কুরআনুল কারীম সত্য নবীর উপর নাজিল হওয়া।
“সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি তার বান্দার উপর কিতাব নাজিল করেছেন…”

(খ) আল্লাহর নাফরমান বান্দাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতে সংঘটিতব্য অতিশয় কঠিন ও কষ্টদায়ক শাস্তির ভয় দেখানো।
“যাতে কঠিন শাস্তির ব্যাপারে সতর্ক করে দিতে পারে”।

(গ) সকল অবস্থায় আল্লাহর আনুগত্যকারীদেরকে অনন্ত জীবনের সুখ ও শান্তির সুসংবাদ।
“আর তিনি মুমিনদেরকে সুসংবাদ শোনাবেন, যারা ……”

(ঘ) সেই লোকদেরও লোকদেরও কঠিন পরিণতির ভয় দেখানো, যারা আল্লাহ পুত্রসন্তান গ্রহণ করেছেন বলে বিশ্বাস পোষণ করে।
“আর ভয় দেখাবেন তাদেরকে, যারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।”

(ঙ) দুনিয়ার জাঁকজমককে ভঙ্গুর আখ্যায়িত করে দুনিয়াবিমুখতা ও তাকওয়া অম্বলনের উৎসাহ দান।
“তার উপর যা কিছু আছে, তা অবশ্যই আমি উদ্ভিদশূন্য মাটিতে পরিণত করব।”

(চ) আসহাবে কাহাফের ঘটনা বর্ণনা করে তার চেয়েও বড় ঘটনা শোনার জন্য মস্তিস্ক প্রস্তুত করা।
“তুমি কি মনে কর,গুহা ও রাকীমের অধিবাসীরা আমার নির্দেশনাবলীর মধ্যে বিস্ময়কর?”

(ছ) আসহাবে কাহফের দু’আঃ
“হে আমাদের রব,তুমি নিজ থেকে আমাদেরকে অনুগ্রহ দান কর এবং আমাদের জন্য আমাদের কাজকর্ম সঠিকভাবে পরিচালনা কর।”
এই দু’আর মধ্যে সত্য সন্দিহান হয়ে পড়লে তখন আল্লাহর সমীপে দুটি বস্তু প্রার্থনা করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
একঃ হে আমাদের রব,আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে দৃঢ়তা দান করুন।
দুইঃ আমাদের বিষয়-আশয়ে, যেমন – বাতিলের বিরোধিতা ও সত্যের অনুসরণ এসব কাজে আমাদেরকে নির্দেশনা প্রদান করুন।
এই আয়াতগুলো প্রতিদিন তিলওয়াত করে এগুলোর মর্ম উপলব্ধি করে সে মোতাবেক আমল করুন। আয়াতগুলোকে মুখস্ত করে নিলে অনেক সুবিধা হবে।

তাকওয়া অবলম্বন করুন তাকওয়ার মূল হল হালাল জীবিকা তাই হারাম পরিহার করে চলুন। এমনকি সংশয়পূর্ণ বস্তু থেকেও দূরে থাকুন। বর্তমান যুগে তাকওয়া অবলম্বন করা খুবই জরুরী। নিজেকে সেইসব আমলের পাবন্দ বানিয়ে রাখুন,যার ফলে আল্লাহর রহমত বান্দাকে সব সময় আচ্ছাদন করে রাখে। যেমন – সব সময় অজু সহকারে থাকা, নামাজ শেষ করার পর কিছু সময় জায়নামাজে বসে থাকা,তাহাজ্জুদ পড়া,বিশেষ করে যেসব লোক দ্বীনি কোন কাজে দায়িত্বরত আছেন,তাদের জন্য তো তাহাজ্জুদ নামাজ খুবই জরুরী আমল।

আল্লাহর সঙ্গে মজবুত সম্পর্ক গড়ার লক্ষ্যে নিয়মিত তরমজা ও তাফসীরের সঙ্গে পবিত্র কুরআন পাঠ করুন আর নিজের অন্তরকে আলোকিত রাখতে ও সত্যের কাফেলায় শামিল থাকতে সত্যাশ্রয়ী আলেমগনের সাহচর্য অবলম্বন করুন এবং সব সময় সত্যপন্থীদের পথ অনুসরণ করুন।

দ্বীনের চর্চায় মসজিদগুলোর ভূমিকা সক্রিয় করুন বিশ্ব কুফরি প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রচেষ্টায় রত আছে যে, মুসলমানদের জীবন থেকে মসজিদের ভুমিকাকে নিঃশেষ করে দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যেই তারা আলেমসমাজ ও ধার্মিক শ্রেণীর লোকদেরকে নানা পন্থায় বদনাম করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর মোকাবিলায় প্রতিটি মসজিদে কুরআনের দরস চালু করুন।

১০ যেমনটি উপরে বলা হয়েছে যে,হযরত মাহদীর আমলে যা কিছু সংঘটিত হবে,পূর্ব থেকেই সেসবের আগাম প্রস্তুতি ঈমানের চিহ্ন বলে বিবেচিত হবে। যেমন – নিজেকে গরম ও ঠাণ্ডায় অভ্যস্ত বনানো,লাগাতার কয়েকদিন পর্যন্ত ক্ষুধা পিপাসা সহ্য করা,পাহাড়ে চলাচলের সাহস ও অভ্যাস করা,পাহাড়ি জীবনের সাথে নিজের স্বভাব চরিত্রকে খাপ খাইয়ে নেওয়া,ঘোরতর যুদ্ধের মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া,নিজের মধ্যে ও পরিবার পরিজনকেও আল্লাহর পথে কুরবানি দেওয়ার লক্ষ্যে এখনই প্রস্তুত করতে থাকা ইত্যাদি।
কবির ভাষায়ঃ
“আমি যখন বলি আমি মুসলমান,তখন আমি শিউরে উঠি;

কারণ,আমি জানি,লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর দাবী পূরণ করা কত কঠিন।”